দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও মানসম্মত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিকেও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন। জনগণের এই বিনিয়োগের যথাযথ মূল্য দিতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে হবে। তিনি মনে করেন, শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জনের বিষয় নয়; বরং এটি দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির প্রধান মাধ্যম।
ড. এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার এই সময়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর ও আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের জন্য আনন্দদায়ক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি)-৫ এর আওতায় প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর আগে পিইডিপি-৪ এ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং শিক্ষার্থীদের শেখার মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।


