চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, ১৪টি বোয়িং বিমান, গম, সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতায় পড়তে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে পণ্য আমদানির সুযোগ সীমিত হতে পারে। একই সঙ্গে চুক্তিতে এমন একটি ধারা রয়েছে, যা অনুযায়ী তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই শর্ত মূলত বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
এ চুক্তি ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়নি। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, সরকারপক্ষের কিছু সূত্র বলছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং কৌশলগত সম্পর্কের দিক বিবেচনায় চুক্তিটি বাতিলের সম্ভাবনা কম। তবে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা এবং পুনর্মূল্যায়নের দাবি উঠেছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরাও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


