কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার দুপুরে র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পিত উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন এবং দায়িত্ব পালনকালে নিয়মিত চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ ও সরকারি কাজে অংশ নিতেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে তিনি চট্টগ্রামে একটি প্রশিক্ষণে যোগ দেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, প্রশিক্ষণ শেষে তিনি বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং যাত্রাপথে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। তবে কুমিল্লা এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকে হঠাৎ করেই তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
পরদিন সকালে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় মহাসড়কের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও সহকর্মীরা।


