সিলেটের ঐতিহাসিক হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে মাজারে প্রাপ্ত দান-অনুদানের সুনির্দিষ্ট হিসাব সংরক্ষণ না হওয়ায় এবার আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার মাজার পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, মাজারে আগত ভক্তদের দান করা অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এটি জনসাধারণের সম্পদ হওয়ায় এর আয়-ব্যয় নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
জেলা প্রশাসক জানান, বর্তমানে সরকারি অর্থায়নে মাজার এলাকায় একটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থায়ন ও মাজার কর্তৃপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের সময় আয়-ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাবের অভাব সামনে আসে। এরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ শুরু করে প্রশাসন।
এদিকে মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান স্বীকার করেছেন যে, আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি এতদিন সংরক্ষণ করা হয়নি। মাজার পরিচালনা, বিদ্যুৎ-পানি বিল এবং কর্মচারীদের বেতনের মতো খাতে এসব অর্থ ব্যয় করা হয়ে থাকে বলে তিনি জানান।
ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দান-অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলে গরিব, এতিম ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অবদান রাখা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মাজার, মসজিদ ও মাদ্রাসাকে সমন্বিতভাবে উন্নয়ন করে একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।


