টাঙ্গাইলে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে বিরোধী দল সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল, বর্তমানে সেই একই প্রবণতা আবার দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, “বিতাড়িত স্বৈরাচারের প্রভাব এখন বিরোধীদলের আচরণে প্রতিফলিত হচ্ছে।”
মঙ্গলবার বিকেলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এ জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান অভিযোগ করেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান না করে সংঘাতের পথ বেছে নিচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
তিনি বলেন, জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং দলটি সেই দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তার দাবি, বিএনপি শুরু থেকেই এই সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলেও অন্য কিছু দল প্রথমে দ্বিধায় ছিল এবং পরে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এতে যোগ দেয়।
বিএনপির বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি—যেমন খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড—বাস্তবায়নে বাধা দিলে তা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশে সংস্কারের আলোচনা নতুন কিছু নয়। ২০১৬ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম সংস্কারের প্রস্তাব দেয় এবং ২০২৩ সালে ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে তা আরও বিস্তৃত করা হয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত অনেক সংস্কারই বিএনপির পূর্বঘোষিত পরিকল্পনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক, তবে তা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। বিভেদ নয়, ঐক্যের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব। সবশেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশই সবার একমাত্র ঠিকানা। তাই সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।


