সড়কপরিবহন, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ‘সমঝোতা’র আড়ালে চাঁদাবাজিকে কার্যত বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে এ বক্তব্যকে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, চাঁদাবাজি একটি সুস্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ এবং এটি সমাজ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বক্তব্যে যদি এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে অবৈধ অর্থ আদায় বা অনৈতিক সমঝোতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে তা রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিনি দাবি করেন, এ ধরনের মন্তব্য অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। জনগণ তখন ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিগত দৃঢ়তা না থাকলে অপরাধ দমনে কার্যকর বার্তা যায় না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সরকারের উচিত চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি স্পষ্টভাবে ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা। কোনো অবস্থাতেই অপরাধকে ‘সমঝোতা’র আড়ালে আড়াল করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার করে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
একই সঙ্গে চাঁদাবাজি প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দলটি হুঁশিয়ারি দেয়— জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা হবে। তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমন সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব, যা কোনোভাবেই অবহেলার সুযোগ নেই।


