সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব জনগণ সমর্থন করেছে, তা বাস্তবায়নে বিলম্ব করা হলে জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষিত হবে। তার দাবি, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্রুত শপথ গ্রহণ না করলে সংস্কার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়বে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠু হলেও ফলাফল নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। তবুও দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার স্বার্থে তারা ফল মেনে নিয়েছেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তবে একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং একই ব্যক্তি তাদের শপথ পড়াবেন। কিন্তু আইনি ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, জনগণ গণভোটে যে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না করা হলে তা গণরায়ের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি সরকারি দলের সদস্যদের দ্রুত পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতারা বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এজন্য সংসদ ও সংস্কার পরিষদ—দুটি কাঠামোকেই সমান্তরালভাবে সক্রিয় করার ওপর জোরদেন তারা।


