নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও গতি আনতে ধারাবাহিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সরকারি দপ্তরগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত থেকে কাজের অগ্রগতি তদারকি করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও চলমান প্রকল্প পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জনসেবামূলক কার্যক্রমে কোনো স্থবিরতা না থাকে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তিনি সচিবালয়ে পৌঁছান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন। এদিন তার কর্মসূচির মধ্যে ছিল ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক। বৈঠকে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর জোর দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সরকারি ব্যয় সংকোচনেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর, বিলাসবহুল আয়োজন ও অতিরিক্ত যানবাহন ব্যবহারে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। জনপ্রতিনিধিদের জন্য শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত প্রশাসনে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, সচিবালয়ে টানা উপস্থিতি ও সরাসরি তদারকির কারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বেড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা আলাদা ব্রিফিংও নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তে জনগণের স্বার্থই সর্বাগ্রে থাকবে।”
দায়িত্ব গ্রহণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদারে যে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, তা সরকারের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।


