ঢাকা-১৩ আসনের (মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর ও শিয়া মসজিদ এলাকা) তিনটি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, রিকশা প্রতীকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মামুনুল হক ১ হাজার ২৩৫ ভোট পেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী ববি হাজাজ্জ পেয়েছেন ১ হাজার ১১৫ ভোট। ফলে শুরু থেকেই এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কেবল প্রাথমিক ফলাফল; বাকি কেন্দ্রগুলোর গণনা শেষ হলে সামগ্রিক চিত্র স্পষ্ট হবে। তবে প্রথম তিন কেন্দ্রেই দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত মিলেছে।
ঢাকা-১৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন। ভোটগ্রহণ শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত গণভোটের ভোটগ্রহণও সম্পন্ন হয়।
সকালে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে দেখা যায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক ভোটারই জানান, দীর্ঘ সময় পর একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত।
এবারের নির্বাচনে সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। ২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া চালুর পর এটিই সর্বাধিক সংখ্যক দলের অংশগ্রহণ। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন, যার মধ্যে দলীয় ১ হাজার ৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন।
তবে নির্বাচন ঘিরে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেল জানিয়েছে, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। ৫৯টি স্থানে জালভোট এবং ৩টি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়। সব মিলিয়ে ঢাকা-১৩ আসনে এখন নজর সবার ফলাফলের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।


