জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আগামী বাংলাদেশের জন্য ৩৬ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দেশকে একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক এবং আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
ইশতেহারে বিচারহীনতা বন্ধ, অর্থনৈতিক মুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার, প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন এবং July-era গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মানবাধিকার কমিশনের অধীনে বিশেষ তদন্ত সেল গঠন করে ধর্ম, সম্প্রদায় বা জাতির কারণে বৈষম্যমূলক আচরণ প্রতিহত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক কর্ম-সুরক্ষা বীমা, পেনশন, কর কমিয়ে কর-জিডিপি ১২ শতাংশে উন্নীতকরণ এবং ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ার উদ্যোগ। ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় শূন্যে নামানো এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করার জন্য জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।
শিক্ষা ও প্রবাসী কর্মীর কল্যাণের জন্য শিক্ষা সংস্কার কমিশন, স্নাতক পর্যায়ের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ, ১৫ লাখ দক্ষ প্রবাসী কর্মী তৈরির পরিকল্পনা এবং প্রবাসীদের জন্য ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সার্ভিস চালু করা হবে। স্বাস্থ্য খাতে দেশের উত্তর ও দক্ষিণে বিশেষায়িত হাসপাতাল জোন, জাতীয় হেলথ ইনস্যুরেন্স, জেলা পর্যায়ে ICU ও CCU সুবিধা এবং জরুরি সেবা জিপিএস-ট্র্যাকড অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
সামাজিক উন্নয়নের জন্য নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটি, স্যানিটারি সামগ্রী সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশ ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ৫ বছরে বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন এবং সরকারি ক্রয়ে ৪০ শতাংশ ইলেকট্রিক যানবাহন নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে, সেনাবাহিনীর নিয়মিত ফোর্সের দ্বিগুণ রিজার্ভ ফোর্স, UAV (ড্রোন) ব্রিগেড এবং সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এছাড়া সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পানি সরবরাহের ন্যায্য ভাগ নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এনসিপি উল্লেখ করেছে, এই ইশতেহার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত হবে।


