ভারতের আদানি পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাজারমূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করছে বাংলাদেশ—এমন তথ্য উঠে এসেছে সরকারের নিযুক্ত উচ্চপর্যায়ের এক পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, চুক্তির আওতায় শুধু বিদ্যুতের উচ্চমূল্যই নয়, ভারতের করপোরেট করের দায়ও বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক রীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দাম নিকটবর্তী বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের তুলনায় প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় রিভিউ কমিটি (এনআরসি) জানায়, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির অন্যান্য চুক্তির তুলনায় এ প্রকল্পেই ব্যয় বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি।
এনআরসির পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, চুক্তির কিছু নির্দিষ্ট শর্তের কারণেই এ মূল্য বৈষম্য তৈরি হয়েছে এবং চুক্তি প্রদানের প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ যে মূল্য পরিশোধ করছে, তা বাস্তবসম্মত বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।
এ বিষয়ে আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, পর্যালোচনা কমিটি তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি এবং প্রতিবেদনটির কপি তারা পায়নি। ফলে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে তারা দাবি করেছে, বড় অঙ্কের বকেয়া পাওনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে, যেখানে অন্য অনেক উৎপাদক সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বা বন্ধ করেছে।
প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ আমদানির বিদ্যমান চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিকর শর্তগুলো নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়। এনআরসি আরও জানায়, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ দেশের করপোরেট কর বহন করে; কিন্তু আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা চুক্তিতে এ নীতির ব্যতিক্রম ঘটেছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


