নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ ছুটি ও জরুরি সেবার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে—এ সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের সর্বশেষ সভায় ১১ ফেব্রুয়ারিকেও সাধারণ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এর অংশ হিসেবে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলে ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে শ্রমিকরা মোট তিন দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
তবে নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানান প্রেস সচিব। তিনি বলেন, যেমনটি ঈদ বা অন্যান্য বড় ছুটির সময় দেখা যায়, তেমনি এবারও জনস্বার্থে কিছু সেবা চালু রাখা হবে।সাধারণ ছুটির বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে জরুরি পরিষেবা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস এবং দেশের বন্দরগুলোর কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে যোগাযোগ ও পরিচ্ছন্নতা সেবাও চালু থাকবে। টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক বিভাগ, নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং এসবের সঙ্গে যুক্ত যানবাহন ছুটির বাইরে থাকবে।
চিকিৎসাসেবাকেও সম্পূর্ণভাবে জরুরি খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সব হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী, পাশাপাশি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
এ ছাড়া যেসব সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কাজ সরাসরি জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা থাকবে বলে জানান শফিকুল আলম। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনকালেও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো সচল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


