ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে রাজাপুর উপজেলার একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে দেওয়া ওই বক্তব্য বৃহস্পতিবার রাত থেকে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই বৈঠকে ড. ফয়জুল হক বলেন, একজন মানুষ জীবনে ইবাদতের সুযোগ না পেলেও যদি জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়ি পাল্লা’র পক্ষে দাওয়াত দেন, তাহলে আল্লাহর দরবারে তা কবুল হতে পারে এবং অতীতের গুনাহ মাফ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বিড়িতে সুখটান দেওয়ার মাঝেও কেউ যদি দোকানদার বা আশপাশের মানুষকে দাঁড়ি পাল্লার কথা বলেন, সেটিও বড় ধরনের কাজ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
নিজের বক্তব্যে তিনি ভোটের পক্ষে প্রচারণাকে সহজ ও খরচবিহীন কাজ হিসেবে তুলে ধরেন। পুরুষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চায়ের দোকানে গিয়ে কম দামের চা অর্ডার দিয়ে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে। এ সময় দেশের পরিস্থিতি ও জামায়াতের প্রার্থীর বিষয়ে কথা বললে আশপাশের আরও কয়েকজনের মধ্যে বার্তাটি ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নারীদের উদ্দেশেও আলাদা পরামর্শ দেন ড. ফয়জুল হক। তিনি বলেন, উঠান বৈঠক বা গল্পের আসরে দাঁড়ি পাল্লার পক্ষে কথা বলতে হবে এবং আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি অন্তত ২০ জন নারী ভোটারকে ফোন করে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটের দিন সম্পর্কেও তিনি নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। ড. ফয়জুল হক বলেন, নির্বাচনের রাতে যেন কেউ ঘুমিয়ে না পড়ে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে সবার আগে গিয়ে ভোট দেওয়া, এরপর ফলাফল দেখা এবং বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ড. ফয়জুল হকের এই বক্তব্য তার নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।


