যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন করে কঠোরতা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিসা বন্ড বা জামানত দেওয়ার শর্তে অন্তর্ভুক্ত দেশের তালিকা উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের নাম যুক্ত হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি কাজের উদ্দেশ্যে যেতে ইচ্ছুক অনেক আবেদনকারীর জন্য নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকদের ভিসা শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে বিবেচিত, তাদের ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তা চাইলে ভিসা বন্ড আরোপ করতে পারবেন। এই বন্ডের পরিমাণ ধাপে ধাপে নির্ধারিত হবে—৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ টাকারও বেশি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ ওই তারিখের পর কোনো বাংলাদেশি নাগরিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য যোগ্য হলেও, সাক্ষাৎকার ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাকে এই জামানত দিতে বলা হতে পারে।
ভিসা বন্ড মূলত একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক নিশ্চয়তা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসাধারী যদি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তাহলে এই অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা শর্ত ভঙ্গ করলে এই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল লক্ষ্য হলো ভিসা ওভারস্টে কমানো এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা জোরদার করা। যদিও অতীতে যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো এমন উদ্যোগ নিয়েও পরে তা প্রত্যাহার করেছিল। নতুন এই নীতির ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও স্বল্পমেয়াদি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


