ঢাকার মেট্রোপলিটন আদালত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের নির্দেশে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর উত্তরা ও দিনাজপুরের জমি, ৬টি ব্যাংক হিসাব, এফডিআরসহ সেভিংস সার্টিফিকেট এবং একটি গাড়ি জব্দ করা হবে। উত্তরা পাঁচ কাঠা জমির মূল্য ধরা হয়েছে ৫৬ লাখ টাকা। দিনাজপুরের ২৩ দশমিক ২১ একর জমির মধ্যে ১৮ দশমিক ০৬০৬ একরের মূল্য দুই কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৮ টাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকী ৫ দশমিক ১৪৯৪ একর জমি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল হিসাবে রয়েছে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।
সম্পদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের ৬টি হিসাবের তিন কোটি ১৪ লাখ ৯ হাজার ২৬৩ টাকা, একটি এফডিআর তিন লাখ টাকা, একটি সেভিংস সার্টিফিকেট ২ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি গাড়ি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের।
দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে জানিয়ে দিয়েছেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নামে অর্জিত সম্পদ হস্তান্তর বা বিদেশে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মামলার তদন্তের স্বার্থে সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৮৭ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তার নিজ নামে থাকা ১১টি ব্যাংক হিসাব ও ৫টি কার্ডে মোট ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৫১০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
এ মামলায় দুদক আইন ২০০৪, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ২৬ জুন একই আদালত সাবেক প্রতিমন্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।


