ইসলামী রাজনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক অঙ্গনে এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব হিসেবে খ্যাত অধ্যাপক মাওলানা আখতার ফারুক রহ.। খেলাফত মজলিসের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমীর এই আলেম ২০০৬ সালের ২৯ এপ্রিল রাজধানীর পান্থপথ জামে মসজিদে জামাতে আসরের নামাজ আদায়েরত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন তিনি মসজিদটির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯২৯ সালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠী গ্রামে জন্ম নেয়া মাওলানা আখতার ফারুক শিক্ষাজীবনেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় কামিল শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।
তিনি ছিলেন বহু-মুখী প্রতিভার অধিকারী—দৈনিক সংগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৬৯-১৯৭৯), সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং জামেয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার তাফসির বিভাগের শিক্ষক। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাফসির ইবনে কাসীরসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ তিনি অনুবাদ করেন।
সাহিত্যেও তার অবদান বিস্তর। মধ্যপ্রাচ্যে হাফেজ্জি হুজুর, বাঙ্গালীর ইতিকথা, খালেদ ইবনে ওয়ালিদ, দাঙ্গা, পশুবাদ-পুঁজিবাদ-সমাজবাদ, তওবার রাজনীতি ও সংলাপ, মরণ মিছিলসহ অসংখ্য বই তিনি রচনা করেন। পাশাপাশি জাদুল মাআদ, মুজিজাতুন্নবী, মিনহাজুল আবেদিন, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, ফাতহুর রাব্বানির মতো ইসলামী জ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থও তার অনুবাদে দেশে পরিচিতি পায়।
১৯৮৯ সালে খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি সক্রিয় নেতৃত্বে ছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংগঠনের সিনিয়র নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই প্রজ্ঞাবান মনীষার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে সংগঠন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলেন—আল্লাহ তাকে মাফ করে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন।


