বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনামলের নিপীড়ন ও অমানবিক আচরণের কারণেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক জটিলতার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বেগম জিয়া দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সারাজীবন ব্যয় করেছেন। কিন্তু তৎকালীন সরকার তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার করেছে। “ছয় দীর্ঘ বছর তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুই বছর তাকে একেবারে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছিল। আমরা মনে করি—এই অমানবিক আচরণই তার রোগের সূচনা ও জটিলতার অন্যতম কারণ,” বলেন বিএনপি মহাসচিব।
বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা বিষয়ে মির্জা ফখরুল জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে বোর্ড তার সার্বিক চিকিৎসা পরিচালনা করছে। তাদের মতামত অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে ইংল্যান্ডে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কাতার থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শনিবার দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এবং সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ৭ ডিসেম্বর তাকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে। তবে সবশেষ সিদ্ধান্ত চিকিৎসকেরা নেবেন—কারণ তার শারীরিক অবস্থা এখনও অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং বিমানযাত্রা নিরাপদ হবে কি না, সেটি নিশ্চিত করার পরই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভোগা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় ২৩ নভেম্বর গভীর রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।


