আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনকে সামনে রেখে তিনটি সম্ভাব্য তারিখ বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখটিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র। অন্য কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে ওই দিনই ভোট আয়োজনের বিষয়ে প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটের দিন ছাড়াও পরদিন অতিরিক্ত আরেকদিন সরকারি ছুটি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোস্টাল ভোট ও প্রবাসী ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার তফসিল ঘোষণা ও ভোটগ্রহণের মধ্যে বেশি ব্যবধান রাখা হবে। আগামী ৭ কিংবা ৮ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে তফসিল ঘোষণা করবেন।
সম্প্রতি ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হওয়ায় একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের আইনি বাধা দূর হয়েছে। জুলাই চার্টারভিত্তিক সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। সংসদের ব্যালট সাদা এবং গণভোটের ব্যালট রঙিন হবে।
দেশে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে পাঁচ কোটির বেশি নতুন তরুণ ভোটার প্রথমবার ভোট দেবেন। ইসি ইতোমধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করছে। দেশের ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্র ও প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষের প্রাথমিক তালিকাও তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্র বা বুথ বাড়াতে আগামী শনিবার মক ভোটিং আয়োজন করা হবে।
ইসির মতে, এবারের নির্বাচন নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার দিক থেকে হবে সর্বাধিক শক্তিশালী। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আট লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া, এআই ব্যবহারে অনিয়ম ঠেকাতে সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং ডেস্ক গঠন করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেছে। বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকা চূড়ান্ত করছে, বেশ কিছু দল নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।ইসি কর্মকর্তারা বলেন—অল্প সময়ের মধ্যেই তফসিল ও ভোটের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে।


