সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে মেঘনা ব্যাংকে থাকা বিপুল পরিমাণ শেয়ার অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অবরুদ্ধ হওয়া শেয়ারের সংখ্যা চার কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টি, যার মালিকানা রয়েছে তিন ব্যক্তির— মেঘনা ব্যাংক পিএলসির সাবেক পরিচালক ইমরানা জামান চৌধুরী, স্টিডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উৎপল পাল এবং একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাসিম উদ্দিন মোহাম্মদ আদিল।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক মো. নাফিজুর রহমান আদালতে শেয়ার অবরুদ্ধের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পরের সহযোগিতায় অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাঠিয়ে আবার দেশে আনেন এবং টাকার উৎস গোপন করতে একাধিক ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তা ঘুরিয়ে ফেলে শেয়ার ক্রয়ে ব্যবহার করেন।
তদন্ত অনুযায়ী, মো. আবুল কাসেম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সিঙ্গাপুর ও দুবাই থেকে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৫১০ মার্কিন ডলার দেশে আনা হয়। পরে সেই অর্থ ক্যাশ চেকের মাধ্যমে ইমরানা জামান চৌধুরী ও স্টিডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এ টাকাই পরবর্তীতে মেঘনা ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়ে ব্যবহার করা হয়।
অবৈধ উৎসের অর্থ ব্যবহার করে মোট ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা মেঘনা ব্যাংকে শেয়ার ক্রয়ের উদ্দেশ্যে কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসিতে হিসাব খুলে স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ না করা হলে অভিযুক্তরা সেগুলো বিক্রি করে অর্থ বেহাত করতে পারেন, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ১৪(১) ধারার অধীনে তদন্তের স্বার্থে শেয়ার অবরুদ্ধ করাকে অপরিহার্য মনে করে আদালত এই নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের ফলে তিন অভিযুক্তের নামে থাকা শেয়ারসমূহ এখন আর স্থানান্তর বা বিক্রি করা যাবে না।


