নতুন পে-কমিশন নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আগামী নির্বাচিত সরকার—রবিবার সচিবালয়ে এমন মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “আমরা এখন শুধু প্রাথমিক কাজ করছি। পে-স্কেল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার।”
সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তিও নতুন সরকারের সময়েই দেওয়া হবে। “সংস্থাটি পরবর্তী সরকারের কর্মকৌশল ও সংস্কার অগ্রগতি দেখে কিস্তি ছাড় করবে,” জানান তিনি।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আইএমএফের কিছু শর্ত রয়েছে, যার মধ্যে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও কর-জিডিপি অনুপাত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে ঋণের কিস্তির প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ঘোষিত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ারমূল্য শূন্য ধরে নেওয়ার বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “এটি চূড়ান্ত নয়। বিষয়টি এখনো পর্যালোচনাধীন।”
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, “সার্বিকভাবে অগ্রগতি ভালো। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে বাসা ভাড়া ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পণ্যের দাম সহনীয় মাত্রায় রাখার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, এবার প্রতি কেজি আমন ধানের সরকারি সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ টাকা, সিদ্ধ চাল ৫০ টাকা এবং আতপ চাল ৪৯ টাকা দরে কেনা হবে—যা গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি ৪ টাকা বেশি। ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে ২০ নভেম্বর থেকে, চলবে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বৈঠকে সার, তেল ও খাদ্যপণ্য আমদানি নিয়েও আলোচনা হয়। অর্থ উপদেষ্টা জানান, সরকার ইতিমধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার টন সার এবং ৫০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে, যাতে কৃষি উৎপাদন ও বাজারস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।


