সাবেক মুখ্যসচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কামাল সিদ্দিকী আর নেই। সোমবার (৩ নভেম্বর) ভোররাতে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সরকারি তথ্য বিবরণীর মাধ্যমে বরেণ্য এ প্রশাসকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
ড. কামাল সিদ্দিকীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার কারণে তিনি দেশের অন্যতম দক্ষ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ প্রশাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উজ্জীবিত এ ব্যক্তিত্ব জাতির সংকটময় মুহূর্তে দেশের সেবা করেছেন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি দীর্ঘসময় কাজ করেছেন। তার কার্যকর নেতৃত্ব, নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা ও ভবিষ্যৎমুখী চিন্তার কারণে তিনি শুধু প্রশাসনেই নয়, বুদ্ধিজীবী মহলেও ব্যাপকভাবে সম্মানিত ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি প্রশাসনের নানা সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখেন। কর্মদক্ষতা, সততা ও দূরদর্শিতায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন দেশের প্রশাসনিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার আসরের নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তার মৃত্যুতে দেশ এক যোগ্য ও অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে হারালো, যার শূন্যতা পূরণ করা সহজ হবে না।
ড. কামাল সিদ্দিকীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তার দেশপ্রেম, আদর্শ ও নিষ্ঠার উত্তরাধিকার ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।


