বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা নিয়ে স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩২ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২৫০ ছাড়িয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু।
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর সংক্রামক রোগ হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এই সংকটকে আরও জটিল করেছে। টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় শিশুদের বড় একটি অংশ প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
প্রথমদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় সংক্রমণ দেখা দিলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশের অধিকাংশ জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় সব জেলাতেই হামের রোগী পাওয়া যাচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং প্রতিবেশী দেশেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে তা সারা দেশে বিস্তৃত করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ আরও দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি বড় মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, কার্যকর পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই মহামারি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।


