হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে সহায়ক হিসেবে স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থা (ই-গেট) কার্যক্রম সেবা চালু করে কর্তৃপক্ষ। এ গেট স্থাপনের তিন বছর পরও সুফল পাচ্ছেন না যাত্রীরা। আগের মতোই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করছেন তারা। পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।
অথচ ই-গেট চালু হওয়ার আগে ও পরে এর সুবিধা নিয়ে ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়েছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বলা হয়েছিল, অল্প সময়ে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই যাত্রী নিজে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। অর্থাৎ, ই-পাসপোর্ট নিয়ে যখন ই-পাসপোর্টধারী একজন ব্যক্তি ই-গেটের কাছে যাবেন, তখন একটি নির্দিষ্ট স্থানে ই-পাসপোর্টটি রাখলে সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে যাবে। নির্দিষ্ট নিয়মে গেটের নিচে দাঁড়ানোর পর ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। এরপর সব ঠিকঠাক থাকলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রী ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, এখন বিমানবন্দরের কোনো ই-গেট সচল নেই। যাত্রীরা এর সুফল পাচ্ছেন না। উল্টো ইমিগ্রেশনের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ই-পাসপোর্ট চালু করে বাংলাদেশ। এর সুফল নিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু করা হয় ই-গেট। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করায় দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল ইমিগ্রেশন কার্যক্রম। তবে কারিগরি ত্রুটি, যাত্রীর ভিসা যাচাইসহ অন্য কাজ ম্যানুয়ালি করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ ই-গেট খোলা থাকলেও সেই আগের নিয়মেই যেতে হতো ইমিগ্রেশন ডেস্কে। এতে জটিলতা বাড়ায় ই-গেটের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইমিগ্রেশন পুলিশের একাধিক সদস্য জানান, দিনে যত সংখ্যক যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন, তাদের প্রায় ৪০ শতাংশের ই-পাসপোর্ট রয়েছে। এ পাসপোর্ট দিয়ে ই-গেটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুধু পাসপোর্ট ও যাত্রীকে শনাক্ত করা যায়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাত্রীর ভিসা পরীক্ষা করা যায় না। এছাড়া যাত্রী কোথায় যাবে, কোন উড়োজাহাজে ভ্রমণ করবে, ই-গেটে সেই তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ফলে ই-গেট ব্যবহার করলেও আগের মতোই ভিসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে ম্যানুয়ালি। এতে ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এর মধ্যে কাছাকাছি সময়ে একাধিক ফ্লাইট অবতরণ করলে বা গেলে ইমিগ্রেশনে আরও বেশি চাপ পড়ে। এই চাপ সামলাতে ইমিগ্রেশন পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়।


