আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা সদর দপ্তর। শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সেনা সদর দপ্তরের অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সেনাবাহিনীর কাছে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি এখনো পৌঁছায়নি। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে সার্ভিসে থাকা ১৫ জন এবং অবসরপ্রাপ্ত একজনসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। “১৫ জনকে সেনা হেফাজতে নেয়া হয়েছে, একজন আত্মগোপনে রয়েছেন,” বলেন তিনি।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান আরও জানান, আত্মগোপনে থাকা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল কবির যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি নয়জন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন।
তিনি বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্তদের ২২ অক্টোবরের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ আছে। তবে ওয়ারেন্টের আইনি ব্যাখ্যা স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
সেনা সদর জানায়, গুম বা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী কোনো প্রকার ছাড় দিচ্ছে না। “গুমের শিকার প্রতিটি পরিবারের প্রতি আমরা সহানুভূতিশীল। ন্যায়বিচারের স্বার্থে সেনাবাহিনী গুম কমিশন ও ট্রাইব্যুনালকে সব ধরনের সহযোগিতা করছে,” বলেন মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান ২৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


