রাজধানীর রাতের অন্ধকারে সাধারণ সিএনজি চালকের ভেসে ছিনতাইকারীদের দাপট বেড়েই চলেছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সাধারণ যাত্রী হিসেবে যাত্রীভান চালক পরিচয়ে ওঠে এই চক্র। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে উত্তরা-কাওলার এলাকায় ঘটে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।
ঘটনার দিন ভোর ৪টা ১০ মিনিটে উত্তরার জসিমউদ্দিন রোড থেকে জন্মদিনের পার্টি শেষে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী আনিকা গোড়ানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সঙ্গী হিসেবে ছিলেন একজন বান্ধবী। পথিমধ্যে বান্ধবীকে বাসার কাছে নামিয়ে দিয়ে আনিকা একা থাকেন। এ সময় সিএনজি চালক রবিন গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে বলে যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। এরপর গাড়িতে লুকানো ধারালো অস্ত্র বের করে আনিকার সমস্ত সম্পদ ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীর মা সময় সংবাদকে বলেন, “ধারালো অস্ত্র গলায় ধরলে মেয়েটি বাধ্য হয়েই জিনিসপত্র দিতে বাধ্য হয়।” মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পর রবিন আনিকাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। বাধা দেয়ার পর অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হাত জখম করা হয়। স্থানীয়রা ছুটে এসে আনিকাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করেন। হাতে ২৬টি সেলাই পড়ে, দুই দিন আইসিইউতে থাকার পর এখন কিছুটা সুস্থ।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক মো. খালিদুল হক হাওলাদার জানান, ভুক্তভোগী সিএনজির অস্পষ্ট ছবি তুলে রাখায় তা থেকেই তদন্ত শুরু হয়। দুইদিনের তল্লাশির পর মহাখালী এলাকা থেকে সিএনজি ও ছিনতাইকারী রবিনকে আটক করা হয়। তিনি গ্রেফতারের পর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছেন।
র্যাব সতর্ক করে বলছে, রাতের সময় যেসব সিএনজি ব্যবহার হয়, তাদের ছবি তুলে স্বজনদের পাঠানো এবং অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি, বিশেষ করে বিমানবন্দর ও উত্তরা-গোড়ান রুটে।


