কনটেইনার পরিবহনে বিশ্বের শীর্ষ বন্দরের তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের আবারও ছন্দপতন হয়েছে। গত বছর রেকর্ড সংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরও বৈশ্বিক তালিকায় পিছিয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
লন্ডনভিত্তিক বন্দর ও শিপিং বিষয়ক বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো সংবাদমাধ্যম লয়েডস লিস্ট ২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দরের কনটেইনার পরিবহনের সংখ্যা হিসাব করে এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
সম্প্রতি সংবাদ মাধ্যমটির ওয়েবসাইটে ‘লয়েডস লিস্ট: ওয়ান হানড্রেড পোর্টস ২০২৫’ শীর্ষক বিশেষ প্রকাশনায় বৈশ্বিক তালিকাটির সর্বশেষ ২০২৫ সংস্করণ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ মাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউস (একক) কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ টিইইউস, অর্থাৎ এক বছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত দশমিক চার শতাংশ।
সৌদি আরবের দাম্মাম বন্দর একই বছরে ৩২ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৮ টিইইউস কনটেইনার পরিবহন করে ৬৭তম অবস্থান দখল করেছে।
বরাবরের মতো এবারও চীনের সাংহাই বন্দর সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি ১৫ লাখ ছয় হাজার ৩০০ টিইইউস কনটেইনার পরিবহন করে লয়েডস লিস্টের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে, আর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর বন্দর।
চট্টগ্রাম বন্দরকে নিয়ে প্রকাশনায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে প্রথম বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত টার্মিনাল চালুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জট নিরসন ও আধুনিকায়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।’
উল্লেখ্য, সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) গত বছরের জুনে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন নির্মিত পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) পরিচালনা কার্যক্রম শুরু করে।
ইতিহাস বলছে, ২০২৩ সালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং দুই দশমিক নয় শতাংশ কমলেও লয়েডস লিস্টের ২০২৪ সালের সংস্করণে চট্টগ্রাম বন্দর ৬৭তম অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
এর আগে ২০২৩ সালের সংস্করণে ২০২২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তিন ধাপ পিছিয়ে ৬৭তম অবস্থানে গিয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর। সে বছর কনটেইনার পরিবহন হয়েছিল ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউস, যা আগের বছরের তুলনায় দুই দশমিক দুই শতাংশ কম।
২০২২ সালের সংস্করণে অবশ্য বন্দরটি তিন ধাপ এগিয়ে ৬৪তম স্থানে উঠেছিল। এর আগে ২০১৪ সাল থেকে টানা সাত বছর এগোলেও ২০২১ সালের সংস্করণে প্রথমবারের মতো একেবারে নয় ধাপ পিছিয়ে ৬৭তম স্থানে যায় চট্টগ্রাম বন্দর।
মূলত ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়ায় কনটেইনার হ্যান্ডলিং হ্রাস পেয়েছিল।
তালিকায় বন্দরের অবস্থান ছিল—২০২০ সালের সংস্করণে ৫৮তম, ২০১৯ সালে ৬৪তম, ২০১৮ সালে ৭০তম, ২০১৭ সালে ৭১তম, ২০১৬ সালে ৭৬তম, ২০১৫ সালে ৮৭তম ও ২০১৪ সালে ৮৬তম।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, তারা এখনো লয়েডস লিস্টের বিস্তারিত প্রতিবেদন হাতে পাননি।
লয়েডস লিস্টের প্রকাশনা অনুযায়ী, শীর্ষ তালিকায় স্থান পাওয়া ১০০টি বন্দরে গত বছর ৭৪ কোটি ৩৬ লাখ একক কনটেইনার ওঠানো-নামানো হয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এসব বন্দরে গড়ে কনটেইনার পরিবহন বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে চীনের সাংহাই বন্দর। গত বছর বন্দরটি দিয়ে ৫ কোটি ১৫ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর বন্দর। সিঙ্গাপুর বন্দরে গত বছর পরিবহন হয়েছে ৪ কোটি ১১ লাখ একক কনটেইনার। সবার শেষে, অর্থাৎ ১০০তম স্থানে রয়েছে চিলির সান অন্তোনিও বন্দর। এই বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন হয়েছে ১৮ লাখ।


