সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ওতার ভাই এবিএম শাহারিয়ারের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, হারুন অর রশিদের নামে কিশোরগঞ্জ, কক্সবাজার ও নারায়ণগঞ্জে মোট ৯৯.১৮ বিঘা জমি জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জেই রয়েছে ৯১.৩২ বিঘা জমি। এছাড়া ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে একাধিক ভবন ও ফ্ল্যাট রয়েছে তার নামে। গুলশানে ১০.৩৬ শতক জমিতে ৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকার একটি বিলাসবহুল ভবন এবং উত্তরা ৭.৪৫ কাঠার জমিতে ৩ কোটি টাকার আরেকটি ভবন জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া, কুড়িলে সেমিপাকা একটি টিনশেড বাড়ি, খিলক্ষেতে একতলা একটি ভবন ও সেমিপাকা আরেকটি বাড়ি, উত্তরার ৭ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং জোয়ার সাহারায় ৬ তলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় আরেকটি ফ্ল্যাট জব্দ করা হয়েছে। আশিয়ান সিটিতে ৫ কাঠার একটি প্লটও আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে। হারুনের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট ১ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৬৮ টাকা জমা রয়েছে।
হারুনের ভাই এবিএম শাহারিয়ারের ৩০ বিঘা জমিও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া তার ১১টি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, হারুন অর রশিদ ও তার ভাই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ গোপনে অর্জন করেছেন। হারুন তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ১৭ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে তার ভাই শাহারিয়ার ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৪ টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, তারা তাদের সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করছিলেন, যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে আদালত স্থাবর সম্পত্তি জব্দ ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে, গত ১৭ ডিসেম্বর দুদক তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


