বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্য ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বর্তমানে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি জাতিকে বিভক্ত করার কাজে লিপ্ত। তাদের এই কর্মকাণ্ড ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী।” তিনি আরও বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে একটি অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি তার বাবার কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা অর্জন করেছেন।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফখরুল বলেন, “যখন শেখ হাসিনা বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করে রেখেছিলেন, তখন তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।” খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “এই ধরনের সহিংস ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে আনতে হবে।” অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানের পাটাতন হলো ঐক্যবদ্ধ ছাত্ররাজনীতি, যার অন্যতম কারিগর তারেক রহমান।”
দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, “৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। এটি কখনোই বন্ধ করা যাবে না।” বিএনপি নেতারা মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারবিরোধী ঐক্য আরও শক্তিশালী হচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন আন্দোলনে নতুন গতি আনবে এবং জনগণের মধ্যে একটি ঐক্যের সেতুবন্ধন তৈরি করবে।
এই অনুষ্ঠানে বিএনপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।


