সরকার দুই দেশ থেকে এক লাখ টন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে জিটুজি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টন আতপ চাল এবং ভারত থেকে ৫০ হাজার টন বাসমতি চাল কেনা হবে। বৃহস্পতিবার ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় মোট ১৩টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাকিস্তানের ট্রেডিং করপোরেশন থেকে প্রতি টন ৪৯৯ ডলারে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৩০৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ভারতের গুরুদেয় এক্সপোর্ট করপোরেশন থেকে প্রতি টন ৪৫৪ ডলারে ৫০ হাজার টন বাসমতি চাল কেনা হবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি টাকা।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুটি ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে আরব আমিরাতের ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড থেকে ৬৯২ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় একটি এলএনজি কার্গো এবং সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া থেকে ৬৬৩ কোটি টাকায় আরেকটি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ১০ হাজার টন মসুর ডাল, ৫ কোটি ৫০ লাখ লিটার ভোজ্যতেল এবং ১৫ হাজার টন চিনি কেনার পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
পৃথক দরপত্রের মাধ্যমে ৫ কোটি ৫০ লাখ লিটার ভোজ্যতেল কিনতে সরকারের ব্যয় হবে ৯২৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস থেকে ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল, সুপার অয়েল রিফাইনারি থেকে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল এবং শবনম ভেজিটেবল অয়েল থেকে ২ কোটি ২০ লাখ লিটার পাম অয়েল কেনা হবে।
এছাড়া, চিনির জন্য মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ১০ হাজার টন এবং সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৫ হাজার টন চিনি কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৭৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। টিসিবির ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৮ হাজার টন মসুর ডাল এবং ১ লাখ ৪৪ হাজার টন চিনি কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ পর্যন্ত ৯২ হাজার ৯৫০ টন মসুর ডাল এবং ২০ হাজার টন চিনি কেনার চুক্তি হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের আলোকে আরও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হবে।


