আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষণাপত্রের ওপর আংশিক ঐক্য নষ্টের আশঙ্কায় তিনি ছাত্রদের তা ঘোষণা না করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, ঐক্য বজায় রাখতে এমন উদ্যোগে বিরতি রাখা উচিত ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় ঐক্যের বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। ড. ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, “একদিন ছাত্ররা এসে বললো, তারা একটা ঘোষণা দিতে চায়। আমি তখন তাদের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলাম এবং তাদের জানিয়ে দিলাম, এই পদক্ষেপে ঐক্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি তোমরা ৫ আগস্টের ঐক্য ফিরে পেতে চাও, তবে সেটা একযোগে করতে হবে, একা না। ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষণাপত্র দিতে না পারলে উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং ঐক্যের সার্থকতা ক্ষুণ্ণ হবে।”ড. ইউনূস বলেন, ৫ আগস্টের ঐক্য ছিল সেই দিনটির সবচেয়ে বড় শক্তি। তখন সবাই এক হয়ে কাজ করেছিল, কেউ নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেনি। “ঐক্য ছিল ঐক্যের জন্য, শুধু জাতীয় স্বার্থে। যদি তা আরও একবার করতে চাও, তাহলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা করতে হবে।”
তার মতে, একত্রে কাজ করলে সকলের মধ্যে সাহস সৃষ্টি হয় এবং একতার মাধ্যমে জাতি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। “আমি যতদিন আছি, একতা নিয়েই থাকতে চাই। আমাদের কাজের উদ্দেশ্য একত্রে সফল হবে। কাজেই ঐক্যই আমাদের পথ হতে হবে,” ড. ইউনূস বলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “যখন আমরা একসঙ্গে কাজ করি, তখন আমরা শক্তিশালী অনুভব করি। একতার মাধ্যমে অনেক বেশি প্রেরণা পাওয়া যায় এবং কাজের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা সহজ হয়।”
এছাড়া, ড. ইউনূসের মতে, ঐক্য হতে হবে অটুট এবং দেশের স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে কোনও বিভেদ সৃষ্টি না করা উচিত।


