নিত্যদিনের ব্যস্ত জীবনে ছোট্ট যে কনসিলারটি এখন অনেকের হাতের নাগালে, তার পথচলা কিন্তু মোটেও ছোট নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পণ্যটি বদলেছে, বদলেছে এর ব্যবহারও। একসময় কনসিলার ছিল কেবল হলিউডের চলচ্চিত্র জগতের প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। উজ্জ্বল আলো আর উচ্চমানের ক্যামেরার সামনে অভিনেতাদের ত্বকের সূক্ষ্ম দাগ ঢাকতেই এর জন্ম।
১৯১০ থেকে ১৯৩০-এর দশকে ভারী মেকআপ ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যেত না। এতে চেহারা দেখাত অস্বাভাবিক। তখনই নির্দিষ্ট অংশে ব্যবহারযোগ্য একটি সমাধান হিসেবে কনসিলারের প্রচলন শুরু হয়। দীর্ঘদিন এটি শুধু পেশাদার মেকআপ শিল্পীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য ধারণাতেও আসে পরিবর্তন। “নো-মেকআপ মেকআপ লুক” জনপ্রিয় হওয়ার পর হালকা ও প্রয়োজনভিত্তিক মেকআপের চাহিদা বাড়ে। ফলে কনসিলার ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রুটিনে জায়গা করে নেয়।
বাংলাদেশে মেকআপ সংস্কৃতি মূলত উৎসবকেন্দ্রিক ছিল। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসারে মেকআপের ব্যবহার ও সচেতনতা বেড়েছে দ্রুত। এখন অনেকেই প্রতিদিন ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে সামান্য কনসিলার ব্যবহারেই স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।
আগে কনসিলার মানেই ছিল আমদানিনির্ভর ও ব্যয়বহুল পণ্য। দেশীয় ত্বকের রঙ বা আবহাওয়ার সঙ্গে সবসময় তা মানানসই হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশি ত্বক ও জলবায়ু বিবেচনায় পণ্য তৈরি করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় দেশীয় বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে কনসিলার এখন আর বিলাস নয়, বরং বাস্তব প্রয়োজন। হলিউডের সেট থেকে আজ এটি জায়গা করে নিয়েছে সাধারণ মানুষের ড্রেসিং টেবিলে।


