সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদের বিচার, দায় ও মীমাংসা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা দেশব্যাপী গুম ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা এবং আন্তর্জাতিক মানের বিচার দাবি করেছেন। বক্তারা বলেছেন, পুলিশ নিজেরাই এই হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে জড়িত, ফলে তারা এসব মামলা গ্রহণ করছে না। সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে বিরোধী মতাবলম্বীদের গুম এবং হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দায়ী। বিএনপির মামলার তথ্য সংরক্ষণ সমন্বয়ক মো. সালাহউদ্দিন খান বলেন, বিএনপি এখন পর্যন্ত তিন হাজার মামলা করেছে এবং অতীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ নামে নাটক সাজিয়ে নিরপরাধ মানুষের হত্যার ঘটনাও উঠে আসে। তিনি জানান, সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে তিন লাখেরও বেশি এফআইআর করেছে, আর দুই হাজার ২৭৬ জনকে ক্রসফায়ারে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।
বক্তারা বলেন, পুলিশ নিজেদের সহায়তায় এসব হত্যার মামলায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে, আর মামলার সঙ্গে জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য করার অভিযোগও তুলে ধরেন। সালাহউদ্দিন খান আরও বলেন, তারা ছাত্রদের পক্ষ থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং ফ্যাসিবাদের দ্রুত বিচার চেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ পরবর্তী’ অবস্থায় রাষ্ট্রকে মানবাধিকার রক্ষায় আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টও এই দাবির পক্ষে ছিল, যা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার শক্তিশালী করণের আহ্বান জানায়। তিনি জানান, বিএনপি এ রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযোগ দায়ের করেছে এবং আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিচার করার দাবি জানিয়েছেন।
মায়ের ডাক সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদ নয়, বরং একটি গণহত্যার সমান। তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র তিনজন গুম হওয়া ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, বাকিরা এখনো গুম হয়ে আছেন, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বক্তারা একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানের বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন এবং দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।


