বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, ব্যাংকার এবং স্বাধীন সঙ্গীতের প্রবীণ শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় শনিবার সকালে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সংবাদ প্রতিদিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। চিকিৎসা চলাকালীন, একের পর এক শারীরিক সমস্যায় ভুগে তিনি অস্ত্রোপচারও করান। তার পর শরীরে ঘটে হার্ট অ্যাটাক এবং নিউমোনিয়া আক্রান্ত হন। চেতনা হারানোর পর ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
প্রতুলের গান “আমি বাংলায় গান গাই” একদম অমর হয়ে উঠেছে। ২০১৬ সালে সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে জমি ফেরত পাওয়ার সময়, এই গানে তাকে শোনা যায়। প্রতুলের গানে শুধুমাত্র দেশের কথা ছিল না, মানুষের কথা ছিল, যেগুলি তার কণ্ঠে এক নতুন প্রাণ পেয়েছিল। এমনকি বাংলাদেশে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনও তার অ্যালবাম প্রকাশ করে, যার মধ্যে এই গানের একটি বিশেষ স্থান ছিল।
প্রতুলের জন্ম ১৯৪২ সালে বরিশালের এক পরিবারে। দেশভাগের সময় তার পরিবার চুঁচুড়ায় চলে আসে। স্কুল জীবন থেকেই তার সংগীতচর্চা শুরু হয়, এবং ১৯৬২ সালে প্রথম গান লেখেন। গণসংগীতের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল, এবং নকশাল আন্দোলনের সময় তিনি ‘সেজদা কমরেড’ নামে পরিচিত ছিলেন। একজন সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালে, যখন তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘যেতে হবে’ প্রকাশিত হয়। এর পর একে একে ‘পাথরে পাথরে নাচে আগুন’, ‘স্বপ্নের ফেরিওয়ালা’, এবং ‘অনেক নতুন বন্ধু হোক’-এর মতো অ্যালবামগুলো শ্রোতাদের মন জয় করে।
তিনি শুধু গায়কই ছিলেন না, প্লেব্যাক সঙ্গীতেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ‘গোঁসাইবাগানের ভূত’ সিনেমায় তার গান শুনে দর্শকরা তাকে প্রশংসিত করেছিলেন। প্রতুলের চলে যাওয়ার সঙ্গে বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায় শেষ হল। তার গানের কণ্ঠ এবং ভাবনা চিরকাল শ্রোতাদের মনে থাকবেই।


