রাজধানীর শাহবাগ থানার স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নতুন থানার ভবনটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে নির্মাণ করা হবে, যা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় হবে। এটি ছিল দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া, কারণ শাহবাগ থানা বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানে বিকল গাড়ির ডাম্পিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে, সরকার পূর্বে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে শাহবাগ থানা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশে, সাকুরা রেস্তোরাঁর পেছনে স্থানান্তর করা হবে। তবে, স্থানটির মালিকানার সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলোর কাছাকাছি থানা প্রতিষ্ঠা নিয়ে কিছু উদ্বেগের কারণে ওই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশিদ জানান, নতুন থানা নির্মাণের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশে একটি উপযুক্ত স্থানের নির্বাচন করা হয়েছে। এই স্থানটি প্রয়োজনীয় ভূমির পরিমাণ এবং সুবিধাজনক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে, এবং থানা ভবনটি উত্তরমুখী করে নির্মাণ করা হবে। সাকুরার পাশের স্থানটি উপযোগী না হওয়ায় এখন এই নতুন স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান শাহবাগ থানার অবস্থান যেখানে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং যানবাহনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা সরিয়ে ফেলা হবে। ফুলের বাজারটি পুনর্বিন্যাস করা হবে এবং থানা ভবনটি নতুন স্থানে স্থানান্তরিত হলে পুরো এলাকা আরও সুগঠিত এবং আধুনিক হবে।
এদিকে, স্থানান্তরিত থানার ভবনটি শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছাকাছি হবে, যেমন বারডেম হাসপাতাল এবং ঢাকা ক্লাব, যা এলাকার সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা উন্নত করবে। স্থান পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
এখন সবার নজর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন নতুন থানার ভবনটির নির্মাণের দিকে, যা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক করবে।


