ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়মের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সম্প্রতি এক এজেন্সি মালিক সৌদি আরবে হজযাত্রী পরিবহনের দায়িত্বে গিয়ে ব্যাগে ৩ হাজার বিড়ি বহন করেন। দেশে ফেরার সময় ওই মালিক প্রায় আড়াই কেজি স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে বিমানবন্দরে আটক হন।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হজ ও ওমরাহ ফেয়ার ২০২৫-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, “অনেক এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এমন কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন যা দেশের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকার ইতোমধ্যে নিষ্ক্রিয় ও অনিয়মে জড়িত এজেন্সিগুলোকে তালিকা করছে এবং বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি কোনো হজ বা ওমরাহ এজেন্সির সঙ্গে অবৈধ আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এছাড়া হজযাত্রীদের সেবা উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি জানান, হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর অসুস্থ কাউকে হজে যেতে দেওয়া হবে না। ২০২৬ সাল থেকে হজ কার্যক্রমে আরও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সি মালিকরা হজযাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, সঠিকভাবে নীতি ও আইন মেনে চললে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী হজ ব্যবস্থাপনায় একটি আদর্শ উদাহরণ হতে পারবে।


