দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সেনাবাহিনীকে আরও ৬০ দিনের জন্য বিশেষ বিচারিক ক্ষমতা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল (১৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই ক্ষমতার আওতায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারায় বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তারা, যারা কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে কর্মরত, স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারার অধীনে প্রদান করা হয়েছে।
এই বিশেষ ক্ষমতার আওতায় কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ ধারায় ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এসব ধারা মূলত সংগঠিত অপরাধের দমন, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর একই কারণে সেনাবাহিনীকে ৬০ দিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এই সময়কালে সেনাবাহিনী সফলভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি মোকাবিলা করতে এই পদক্ষেপ পুনরায় কার্যকর করা হলো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
যদিও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে জননিরাপত্তা নিশ্চিতের একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে সমালোচকেরা এটিকে সামরিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হলেও এর কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে পারে।


