বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) নতুন ভূমিকায় হঠাৎ ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং কমিশনার মিঞা মুহাম্মাদ আলি আকবার আজিজী ও হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগের খবর প্রথমে গুঞ্জন হিসেবে অফিসজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও, দুপুর দুইটার দিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে আলাপের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করা হয়। সকালে সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে চেয়ারম্যানসহ দুই কমিশনার নিয়মিত কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু অফিসের অভ্যন্তরীণ মহলে তাদের পদত্যাগের কথা দ্রুত আলোড়ন সৃষ্টি করে।
মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর কমিশনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার দীর্ঘ সরকারি ক্যারিয়ারে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা আবদুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সহকারী একান্ত সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ বিমান কোম্পানির এমডি ও সিইওসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০০৯ সালে তিনি যুগ্ম সচিব থাকাকালীন ওএসডি হন এবং ২০১৩ সালের ৬ জুন বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তার দীর্ঘ কর্মজীবন ও পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে দুদকের ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মকাণ্ডে নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগের পর কমিশন হঠাৎ শূন্যস্থান নিয়ে কাজ করবে, যা প্রশাসনিক দিক থেকে সাময়িকভাবে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। এই পদত্যাগের পর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য সরকারী প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


