দেশের পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুসারে, একীভূতকরণ ইস্যুতে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে আগামী ২১ মে বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে ইজিএম করবে ওয়ালটন হাই-টেক। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ মে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণের পর প্রস্তাবিত একীভূতকরণ প্রক্রিয়া কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
একীভূতকরণের বিষয়ে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের মধ্যে একটি পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। একই দিন ওয়ালটন হাই-টেকের পর্ষদ সভায় একীভূতকরণ-সংক্রান্ত এমওইউ অনুমোদন দেয়া হয়। এরই মধ্যে একীভূতকরণ ইস্যুতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনাপত্তি পেয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক।
বর্তমানে ওয়ালটন ডিজি-টেক ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি), ইলেকট্রিক বাইকসহ ১২৩ ধরনের হাই-টেক পণ্য ও অ্যাকসেসরিজ উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের একমাত্র মোবাইল ফোন ও পিসিবি ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা স্থাপন করেছে। একীভূতকরণের ফলে এসব পণ্য ওয়ালটন হাই-টেকের ব্যবসায়িক পরিধিতে যুক্ত হবে, যা কোম্পানির বাজার সম্প্রসারণ, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছর শেষে ওয়ালটন ডিজি-টেকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০ কোটি টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৯১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিট আয়ের বিপরীতে ৪ কোটি ৯ লাখ টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে। অন্যদিকে একই সময়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেকের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির ৭ হাজার ৮২ কোটি ২৫ লাখ টাকা নিট আয়ের বিপরীতে ১ হাজার ৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে। ওয়ালটন হাই-টেক বর্তমানে রেফ্রিজারেটর, কম্প্রেসর, এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন, এলিভেটর, ফ্যান, কেবল, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন, বাজারজাত ও রফতানি করে আসছে।
দেশের পুঁজিবাজারে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন শুরু হয় ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। কোম্পানিটির বর্তমানে অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৩৩ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১১ হাজার ৩৭৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৩ কোটি ৩২ লাখ ২১ হাজার ১৭৭। এর ৬৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৮৬, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


