Saturday, June 27, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য জ্বালানি সংকটে লাইটার জাহাজ অচল, চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস ব্যাহত

জ্বালানি সংকটে লাইটার জাহাজ অচল, চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস ব্যাহত

জ্বালানি সংকটে লাইটার জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলের জট তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় লাইটার জাহাজগুলো গভীর সমুদ্রে গিয়ে পণ্য খালাস করতে পারছে না। ফলে আমদানি করা পণ্য সময়মতো খালাস ও বাজারজাতকরণে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খালাসে ধীরগতির কারণে প্রতিটি মাদার ভেসেলকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বর্তমানে অন্তত তিনটি মাদার ভেসেলে থাকা প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন কয়লা কয়েকদিন ধরে খালাস না হয়ে আটকে আছে। এসব কয়লা পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। লাইটার সংকট নিরসনে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসির কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. আরিফ বলেন, পর্যাপ্ত লাইটার জাহাজ না থাকায় কয়লাসহ অন্যান্য পণ্যের খালাস ব্যাহত হচ্ছে। লাইটারিং ও পরিবহন ব্যবস্থায় সমন্বয়ের ঘাটতিও রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বন্দরে মোট ৯৭টি মাদার ভেসেল অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৭৯টি বহির্নোঙরে রয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে ৫৬টিতে খালাস কার্যক্রম চললেও ২৩টি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শফিক আহমেদ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে লাইটার জাহাজগুলো মাদার ভেসেলের কাছে যেতে পারছে না। এতে পুরো খালাস প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, লাইটার জাহাজে জ্বালানি সংকটের কারণে ঢাকা রুটে পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে খালি জাহাজ দ্রুত ফিরে এসে পুনরায় খালাস কাজে যুক্ত হতে পারছে না, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বহির্নোঙর থেকে পণ্য পরিবহনে প্রায় ১ হাজার ২০০টি লাইটার জাহাজ ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে মাত্র ১৫০টি বড় শিল্পগ্রুপের মালিকানাধীন, বাকিগুলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে পরিচালিত।

এদিকে লাইটার জাহাজে পণ্যের অবৈধ মজুত ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হলেও সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রতি বছর প্রায় ১২ কোটি মেট্রিক টন বাল্ক পণ্য—যার মধ্যে গম, ভুট্টা, চাল, কয়লা, সার, সিমেন্ট ক্লিংকার ও স্ক্র্যাপ—চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাস করা হয়। এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছাতে লাইটার জাহাজই প্রধান ভরসা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বন্দরের কার্যক্রম আরও ব্যাহত হতে পারে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

জাকাত ডেটাবেইজ ও ‘জাকাত টেলিভিশন’ চালুর প্রস্তাব পার্থর

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় জাকাত ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান; ওয়েবসাইট-অ্যাপের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে জাকাত পৌঁছানোর পরামর্শ। জাতীয় পর্যায়ে জাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও...

বিদেশ সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদেশ সফরের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশের স্বার্থ ও...

দেশে ফিরেই বাবা-মায়ের মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা...

বাংলাদেশ-চীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে দুই চুক্তি ও ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

  বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের ঐতিহাসিক...

Recent Comments