বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কোনো আঞ্চলিক কিংবা বৈশ্বিক সামরিক বা অর্থনৈতিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্কনীতি সংক্রান্ত আলোচনা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বুধবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আসিয়ান (ASEAN) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ প্রতিটি প্রস্তাব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করছে। এখন পর্যন্ত আমরা কোনো সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেইনি। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নিরপেক্ষ, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বার্থকেন্দ্রিক।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শুল্ক আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই আলোচনা এখনও চলমান। আমরা দীর্ঘমেয়াদি ও পরস্পর-লাভজনক সমঝোতার পথে এগোচ্ছি। কোনো ধরনের চাপে নয়, বরং যৌক্তিকতা ও সমান সুবিধার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নীতিতে আমরা অটল।”
তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের ভূকৌশলগত অবস্থান এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দিন দিন গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সবার সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা গড়ে তুলতে। এক্ষেত্রে আমরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার অংশ না হয়ে, জাতীয় স্বার্থে ভারসাম্য রক্ষা করাই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ধরে রেখেছি।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন জানান, চীনের সঙ্গে অবকাঠামোগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে।
চলমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।


