দেশের প্রকৃত কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও কৃষি সহায়তা সহজে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষক কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো—মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে সরাসরি কৃষকদের হাতে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, কৃষিঋণ প্রদান সহজ করা এবং সার, বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
প্রাথমিকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষকদের এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বর্গাচাষিদেরও পর্যায়ক্রমে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি উপকরণ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘কৃষক কার্ড’ চালু হলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং প্রকৃত কৃষকরাই বেশি উপকৃত হবেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মাথায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে বিএনপি সরকার। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি ১৫ জন কিষান-কিষানির হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, এই দেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, এই দেশের কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।’ তিনি জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে।


