রমজানের আগে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা চরমে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরেও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না ক্রেতারা। পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলোতে তেল সংকট দেখা দিলেও সরকারি হিসাব বলছে, দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে। তাহলে বাজার থেকে তেল উধাও হলো কেন? বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা তেল কিছুটা পাওয়া গেলেও বোতলজাত তেল একপ্রকার অনুপস্থিত। কোথাও পাওয়া গেলেও তা নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০-৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ভোক্তারা বলছেন, সিন্ডিকেটের কারণেই এই কৃত্রিম সংকট। ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমিয়ে মজুত রেখে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমদানির পরিমাণ এক লাখ টন বেশি। তেলের চাহিদা মেটানোর জন্য আরও আট লাখ টন তেল পাইপলাইনে রয়েছে। তবুও বাজারে সংকট কেন? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, যাতে সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়।ভোজ্যতেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বলছে, বাজারে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, গত চার মাস ধরে বেশিরভাগ কোম্পানি তাদের ডিলারদের কাছে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর নয়াবাজারে তেল কিনতে আসা নূরে আলম বলেন, “পাঁচটি বাজার ঘুরেও বোতলজাত তেল পাইনি। বাধ্য হয়ে বেশি দামে খোলা তেল কিনতে হলো।” একই অবস্থা জিনজিরা, কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে। অনেক দোকানদার বলছেন, ডিলাররা সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে তাদের কিছু করার নেই। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, বাজারে কারসাজি রোধে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তবে এর আগেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি দেখা গেছে।
ভোক্তারা চান, সরকার কঠোর নজরদারি বাড়িয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করুক। অন্যথায়, রমজানে তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।


