মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, ৫০ লাখ ডলারের বিনিময়ে ‘গোল্ড কার্ড’ বিক্রি করা হবে, যা গ্রিনকার্ডের সুবিধাসহ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেবে। তার এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ নেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে। দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এই বিপুল অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক সচিব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু আলম শহীদ খান বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও এবার সেই পথেই হাঁটছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অবৈধ উপার্জনের মালিকরা এই সুযোগ লুফে নেবেন।” অপরদিকে, নাগরিক ঐক্যের সদস্য সচিব ডা. জাহেদ উর রহমান মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিতে বিনিয়োগ আনতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন দুর্নীতিবাজ ও কালোটাকার মালিকরা। তিনি বলেন, “অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থের মালিকরা সাধারণত এই ধরনের সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।”
সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল মনে করেন, এই ধরনের কর্মসূচি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশের মতো দেশে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, “কানাডা, মালয়েশিয়া, তুরস্কসহ অনেক দেশ বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রও সেই তালিকায় যোগ দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, ধনী দেশগুলো কেন দুর্নীতিবাজদের স্বাগত জানাচ্ছে?” মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতাদর্শগত দ্বন্দ্বও এ নিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ইবি-৫ কর্মসূচিকে ‘বাকোয়াজ ও জালিয়াতি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, “আমরা ইবি-৫ বাতিল করে গোল্ড কার্ড আনতে যাচ্ছি।”
এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের দুর্নীতিবাজ নেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি এক সুবর্ণ সুযোগ। তারা অবৈধ অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করে নির্বিঘ্নে নতুন জীবন শুরু করতে পারবেন। এর ফলে দেশ থেকে আরও সম্পদ পাচার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি এ ধরনের কর্মসূচির সুযোগ বাংলাদেশি দুর্নীতিবাজরা নিতে পারেন, তবে এটি দেশীয় অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বিচার প্রক্রিয়া আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।


