বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের দীর্ঘদিনের দাবির আংশিক পূরণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, আনলিমিটেড মাইলেজ সুবিধা বহাল থাকছে, তবে অবসরোত্তর ৭৫ শতাংশ মাইলেজ সুবিধা বহাল রাখার দাবি মানা হয়নি। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে রেলপথ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয় যে, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট এবং ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারির সংশ্লিষ্ট পত্রের রানিং অ্যালাউন্স সংক্রান্ত বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভ্রমণ ভাতা বা দৈনিক ভাতার পরিবর্তে রেলওয়ের এস্টাবলিশমেন্ট কোড অনুযায়ী রানিং অ্যালাউন্স প্রদান করা হবে। তবে, রানিং অ্যালাউন্স ছাড়া অন্য কোনো ভাতা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফ ও কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান জানান, “আমাদের দাবির কিছুটা পূরণ হয়েছে। আনলিমিটেড মাইলেজ সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে, কিন্তু অবসরকালীন ৭৫ শতাংশ মাইলেজ সুবিধা এখনো বহাল করা হয়নি, যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রায় ১৬২ বছর ধরে কর্মচারীদের অবসরোত্তর ৭৫ শতাংশ মাইলেজ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করে পেনশন নির্ধারণের বিধান চালু ছিল। তবে ২০২০ সালে এই নিয়ম পরিবর্তন করে মাইলেজ সুবিধাকে বেতনের অংশ থেকে সরিয়ে টিএ (ভ্রমণ ভাতা) খাতে স্থানান্তর করা হয়, যা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় রানিং স্টাফদের মাইলেজ সুবিধা পেনশনের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে আপত্তি জানায়। এরপর ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কারণে ১০ এপ্রিল রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে দেশব্যাপী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে অর্থ মন্ত্রণালয় ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।
২০২৩ সালে রেলওয়ের মহাপরিচালক রানিং স্টাফদের মাইলেজ সংযুক্ত করে পেনশন সুবিধা বহাল রাখার নির্দেশ দিলেও অর্থ মন্ত্রণালয় আবারও আপত্তি জানায়। সর্বশেষ ৯ ডিসেম্বর শ্রমিক ইউনিয়ন রেলপথ মন্ত্রণালয়কে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও সমাধান না হওয়ায় ২৮ জানুয়ারি থেকে ট্রেন চালানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ২৯ জানুয়ারি সরকার নতুন সংশোধনীতে আনলিমিটেড মাইলেজ সুবিধা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানায়, তবে শ্রমিকদের পূর্ণ দাবি এখনো মানা হয়নি।
রানিং স্টাফরা আংশিক দাবি পূরণের বিষয়ে সন্তুষ্ট নয় এবং তারা অবসরোত্তর ৭৫ শতাংশ মাইলেজ সুবিধা পুনর্বহালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। যদি দাবি মানা না হয়, তবে তারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।


