রাজশাহী নগরীর পাঁচটি প্রধান মার্কেট উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, অথচ ব্যবসায়ীরা এখনো প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ফলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, নগরীর সাহেববাজারের আরডিএ মার্কেট, নিউ মার্কেট, হড়গ্রাম নিউ মার্কেট, সোনাদীঘি এলাকার সমবায় মার্কেট এবং সাহেববাজার কাপড়পট্টি মার্কেট উচ্চ অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। এসব মার্কেটে পানির উৎসের অভাব, সরু গলি, এবং ঘিঞ্জি পরিবেশের কারণে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর নয়।
গত ১৫ মার্চ মধ্যরাতে রাজশাহীর নিউমার্কেটের কাঁচাবাজারে আগুন লাগে, যা মুহূর্তেই আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পানির পর্যাপ্ত উৎস না থাকায় এবং সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এতে ১২টি দোকান পুড়ে যায়।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, “ব্যবসায়ীরা সচেতন না হলে বিপদ এড়ানো সম্ভব নয়। মার্কেটগুলোর অবকাঠামোগত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন না হলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বাড়বে। অবিলম্বে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”
ফায়ার সার্ভিসের এক সহকারী পরিচালক জানান, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভ ও প্রশিক্ষিত কর্মী রাখা, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা বারবার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু মার্কেট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিটি মার্কেটে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা উচিত। তাছাড়া, দোকান মালিক ও কর্মচারীদের অগ্নিনির্বাপণ প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। রাজশাহীর এসব ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


