রমজানে ন্যায্যমূল্যে জনগণের জন্য গরুর মাংস বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছিলেন, এবার রমজানে সরকার সুলভ মূল্যে ডিম, দুধ, মুরগির মাংস এবং মাছ সরবরাহ করবে। তবে গরুর মাংস ও খাসির মাংস তালিকা থেকে বাদ পড়বে। তিনি সে সময় বলেছিলেন, গত বছর মাংস বিক্রির সময় নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হওয়ায় মন্ত্রণালয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করেই গরুর মাংস ফের বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফরিদা আখতার বলেন, “প্রথমদিকে আমরা গরুর মাংস বিক্রির পরিকল্পনা করিনি, কারণ গত বছর এটি বিতরণ নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছিল। তবে জনগণের চাহিদা ও রমজানের বাজার নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে এবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ভ্রাম্যমাণ গাড়ির মাধ্যমে গরুর মাংস সরবরাহ করা হবে, যাতে সবাই সহজেই স্বল্প মূল্যে এটি কিনতে পারে। তবে খাসির মাংস তালিকায় যুক্ত হচ্ছে না।
গত বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় গরুর মাংস বিক্রির সময় সরবরাহ সংকট এবং মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সরবরাহ করা মাংসে অনিয়মের অভিযোগও এসেছিল। এসব কারণে এবছর আরও সঠিক ব্যবস্থাপনায় মাংস বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এবার মাংসের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশেষ তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ভ্রাম্যমাণ বিক্রির পাশাপাশি নির্ধারিত দোকানেও এটি পাওয়া যেতে পারে।
রমজানে সাধারণত মাংসের চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে দামও বৃদ্ধি পায়। সরকার আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ জনগণ স্বল্প মূল্যে মাংস কিনতে পারবে।


