বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপে মুদ্রানীতিতে কঠোরতা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি বলছে, নীতি সুদহার আরও বাড়ানো ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা জানান, মূল্যস্ফীতি এখনও ১১ শতাংশের ওপরে রয়েছে, যা ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১০ শতাংশের আশেপাশে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। এরপর তা ৬-৭ শতাংশে নামতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য আইএমএফ অনুমোদিত ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির চতুর্থ কিস্তি নির্ভর করছে শর্ত পূরণের অগ্রগতির ওপর। রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ। তবে শর্তাবলি পর্যালোচনার জন্য আইএমএফ মিশনের একটি প্রতিনিধিদল ৩ থেকে ১৭ ডিসেম্বর ঢাকায় সফর করবে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সাত কিস্তিতে এই ঋণ অনুমোদন করেছিল আইএমএফ। প্রতিটি কিস্তি ছাড়ের আগে শর্ত পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণ করে পূর্ববর্তী কিস্তি ছাড় করা হয়েছে। তবে রাজস্ব আদায় বাড়াতে কর নেট সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।
আইএমএফের মতে, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে হবে। এদিকে, দেশের ব্যবসায়ী মহল ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুদহার বৃদ্ধি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সরকারকে সুষম নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
আইএমএফের প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো মেনে চলতে হলে সরকারকে কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।


