মুক্তিযুদ্ধের অংশ না হয়েও মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়া দুই ব্যক্তি তাদের সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীকের কাছে তারা এই আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা তাদের অনৈতিক কাজের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং এই সনদ নিতে যারা তাদের উৎসাহিত করেছিলেন তাদের শাস্তি দাবি করেন।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) কাছে এই আবেদন পাঠানো হয়েছে এবং তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হবে। যেহেতু তারা স্বেচ্ছায় সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন, তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। একইভাবে, অন্য ভুয়া সনদধারী মুক্তিযোদ্ধারা স্বেচ্ছায় সনদ বাতিল করলে তারাও শাস্তির আওতায় পড়বেন না। তবে যারা স্বেচ্ছায় এই পদক্ষেপ নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক বলেন, “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বাতিলের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা করা। যারা অমুক্তিযোদ্ধা হয়েও সনদ নিয়েছেন, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে যারা স্বেচ্ছায় সনদ বাতিল করবেন, তাদের শাস্তিমুক্ত রাখা হবে।”
আবেদনকারীদের নাম ও পরিচয় গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সচিব ইসরাত চৌধুরী বলেন, “নাম প্রকাশ পেলে আবেদনকারীরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে পারেন এবং অন্যরা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। তাই গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।”
আবেদনকারীরা তাদের অনৈতিক কাজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং নতুন বাংলাদেশের অঙ্গীকার রক্ষার তাগিদ থেকে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাদের একজন ভারতের ‘লাল মুক্তি বার্তা’র তালিকাভুক্ত ছিলেন এবং সেখান থেকেও নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে যারা প্রতারণা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। অমুক্তিযোদ্ধাদের সনদ বাতিলের পাশাপাশি তাদের ভোগ করা সুবিধা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।


