আরবি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস হলো মুহাররম। এটি ইসলামের চারটি পবিত্র ও সম্মানিত মাসের একটি। মুসলমানদের ইতিহাসে এই মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ মাস বহু স্মরণীয়, বেদনাদায়ক ও শিক্ষণীয় ঘটনার সাক্ষী। এসব ঘটনার কারণে মুহাররম মাসকে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
মুহাররম মাসের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাহাদাত। তিনি মুহাররমের ১ তারিখে এক আততায়ীর আক্রমণে গুরুতর আহত হন এবং পরে ইন্তেকাল করেন। তার জীবন ও নেতৃত্ব ইসলামের ইতিহাসে ন্যায় ও শৃঙ্খলার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এরপর আসে ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা, কারবালার প্রান্তরে হজরত হুসাইন ইবনে আলী (রা.)-এর শাহাদাত। তিনি মহররমের ২ তারিখে কারবালায় পৌঁছান। পরবর্তীতে উমাইয়া বাহিনী তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দেয়। ফলে নারী, শিশু ও সঙ্গীরা চরম কষ্ট ও তৃষ্ণার মধ্যে দিন কাটাতে থাকেন।
মুহাররমের ৯ তারিখ, যা ‘তাসুয়া’ নামে পরিচিত, সেদিন হজরত হুসাইন (রা.) ও উমাইয়া বাহিনীর মধ্যে সমঝোতার শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। যুদ্ধ এড়ানোর সব পথ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা রাতভর নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে সময় কাটান।
মুহাররমের ১০ তারিখ, অর্থাৎ ‘আশুরা’, কারবালার ইতিহাসে সবচেয়ে শোকাবহ দিন। এদিন হজরত হুসাইন (রা.) ও তাঁর অনেক বিশ্বস্ত সঙ্গী শাহাদাত বরণ করেন। সত্য, ন্যায় ও ইসলামের আদর্শ রক্ষায় তাঁদের আত্মত্যাগ মুসলিম ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
আশুরা শুধু কারবালার ঘটনাই নয়, বরং ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারকও বটে। বর্ণিত আছে, এই দিনেই আল্লাহ তায়ালা হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন।
এছাড়া ১৭ মুহাররমে আবরাহার হাতির বাহিনীর ঘটনা স্মরণ করা হয়, যা ‘সুরা ফিল’-এ উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাঁর ঘর কাবাকে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, মুহাররম মাস আমাদের ধৈর্য, ত্যাগ, সত্যের পথে অবিচল থাকা এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের শিক্ষা দেয়। নতুন ইসলামি বছরের সূচনায় এই মাস আমাদের অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায় ও কল্যাণের পথে চলার অনুপ্রেরণা জোগায়।