খাদ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি গুদামের চাল ও গম বিক্রি করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি অন্যরা পরিচিতজনকে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ধরনের অপরাধে ফৌজদারি মামলাও হয়েছে, কিন্তু দোষীরা গ্রেফতার এড়াতে পেরেছেন। আবার, সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে দুর্ঘটনা ঘটানোর পরও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত শাস্তি হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো, রংপুর সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার চাল ও গম বিক্রি করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। যদিও তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে, তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় খাদ্য বিভাগের দুর্নাম ছড়িয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ অভিযোগ নিয়ে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি।
আরেকটি উদাহরণ হলো খুলনার মহেশ্বরপাশা সিএসডির উপ-খাদ্য পরিদর্শক মো. শাহদৎ হোসেন, যিনি এক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। চাকরি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত কমিটি ঘটনাটি শাহদতের ব্যক্তিগত লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত করায় কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
এছাড়াও, নেত্রকোনার ডিসি ফুড মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে গাড়ি নিয়ে টাঙ্গাইল যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটান, যাতে দুজন মানুষ মারা যান। তবে তদন্ত কমিটি ঘটনাটিকে নিতান্তই দুর্ঘটনা বলে উল্লেখ করে। তাকে শাস্তি হিসেবে বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হলেও, এর বেশি কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি মীমাংসা হয়েছে বলেও জানা যায়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কীভাবে একজন ডিসি-ফুড এত প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের ঘটনা ম্যানেজ করতে পারেন।
বিগত সরকারের সময়কার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে যথাযথ তদন্ত এবং শাস্তি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক খাদ্য সচিব মো. ইসমাইল হোসেন এনডিসি বিগত সরকারের সময়ের এই অনিয়মগুলোর হালনাগাদ তথ্য চেয়ে খাদ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্টের আগে সংগঠিত অপরাধগুলোর তালিকা এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার সঠিকতা যাচাই করে, প্রয়োজন হলে ফের তদন্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে খাদ্য বিভাগে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই ধরনের দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা খাদ্য বিভাগে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যথাযথ তদন্ত ও শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, এই ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।


